পর্দাশীল নারী (পর্ব-৪)
আমি ক্লাসে ঢুকলাম ক্লাস করতে আর রুহি চলে গেলো ওর ক্লাসে,,সব ক্লাস শেষ করে বাইরে বের হয়ে তেখি রুহি দাড়িয়ে আছে,, আমি যেয়ে ওকে পেছন থেকে চোখ ধরলাম তখনি ও যা বললো তা শুনি আমি ১২০ বোল্ড এর শখ খেলাম.....
---আমি রুহির চোখ ধরার সাথে সাথে ও রেগে চিল্লায়ে বললো কোন হামারজাদা রে,, চোখ ছাড় না হই মেরে বালি চাপা দিয়ে দিবো 



--- আমি তো পুরাই বেকুব, ওর চোখ ছেড়ে দিলাম,, আমার দিকে তাকিয়ে রুহি বললো,,,,
--- ও দুলাভাই তুই,, আমি ভাবলাম কে না কে,, 


--- হুমম সে তো তোর কথা শুনে বুঝতে পারলাম,, মেরে বালি চাপা দিয়ে দিবি 


আল্লাহ কি গুন্ডি মাউয়া,,, 

তোর বোন টা দেখ কতো কিউট আর পর্দাশীল 
ওর মতো হতে পাসির না...?
--- ওই শালা চুপ থাক,, সবাই কি এক রকম হই আর আমার মতো গুন্ডি মাউয়া না থাকলে তোদের মতো ছেছড়া পোলা দের সাইজ করবে কে 





--- ওই শালি বেশি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু, আমি ছেছড়ার কি করলাম রে....?
--- বলবো ছেছড়ার কি করেছির,, 



--- না থাক সোনা তুই আর মুখ খুলিশ না মাপ করে দে,,,, 






--- হয়েছে এবার চল আর তোর ক্রাস কই..?
--- ও তো ক্লাসে ছিলো,, এখন কই আমি কি করে বলবো.,,
--- কি তোর ভালোবাসা রে,,, 


--- বেশি কথা বলবি না তো চল এখন,,, তার পরে আমরা দুই জন চলে গেলাম ক্যান্টিনে,, সেখানে যেয়ে দুই জনে বসে আড্ডা দিচ্ছি তখন দেখি আশ্রাফ আসলো,,
--- আমি বললাম কি রে তুই কই ছিলি ক্লাস করলি না এখন আবার কই থেকে আসলি..?
--- আর বলিস না একটু কাজে বাইরে গেছিলাম এসে দেখি সব ক্লাস শেষ আর তোদের এখানে দেখে চলে আসলাম তা কিছু ওডার কর খাই 


--- আমি ভাই গরিব মানুষ তোরা দুটো বড়ো লোক,, আজ আমাকে তোরা কিছু খাওয়া 


--- হ ভাই আমরা তো কোটি পতি তোরে আজ এই কলেজ ক্যান্টিন টাই দিয়ে দিলাম খাওয়া শুরু কর 

(রুহি)
---শালি মজা লও আমার সাথে (আমি)


--- আচ্ছা বাদ দে তো ঝগড়া করার মুড নেই, আজ আমি খাওয়াচ্ছি দাড়া তোরা,,, ( আশ্রাফ )

আশ্রাফ দেখি ক্যান্টিন থেকে ৩ টা কফি আনলো 


--- কি রে শুধু কফি, যাগ গা কিছু তো খাওয়ালি (আমি) 

তিন জন এক সাথে আড্ডা দিচ্ছি তখন দেখি আমার ক্রাস এসে বলছে,,
--- রুহি আপু বাসাই চলো,,,
---আরে পরে যাবো আগে বস তুই এখানে,, ! রুহির কথা মতো ফাতেমা বসলো আমাদের থেকে একটু দুরে
---আমি আশ্রাফ কে বললাম
--- এই আশ্রাফ ফাতেমার জন্যে একটা কফি আন তো,,,
--- এই না আমি কফি খাই না,, আমি কিছু খাবো না,,,
--- আমি বুঝলাম ফাতেমা কেন কফি খেতে চাচ্ছে না,,, মনে মনে একটা হাসি দিলাম 


ফাতেমা কে যতো দেখছি ততো ওর প্রেমে পড়ে যাচ্ছি,, ওর প্রতি আমার ভালোবাসা বেড়েই চলেছে,, এ যেনো আমার স্বপ্নের রানী আমার পর্দাবতি,,,, 


---কি রে কি ভাবছির এতো,,,(রুহি)
--- কই কিছু না তো কি ভাববো,,, 
--- বুঝি মামা তুমি কি ভাবছো,, টেনশন করিস না সময় হলে সব ব্যবস্থা করে দিবো 

(রুহি)
--- তুই তো আমার শেষ সম্বল কম্বল রে শালি 



--- হয়েছে চল উঠি আনেক দেরি হয়ে গেছে ( আশ্রাফ)
--- হুম ঠিক বলেছির চল ,,, আমরা সেখান থেকে চলে আসলাম,, বাসাই এসে ভাবছি কবে যে ফাতেমাকে বউ করে আনতে পারবো,, কবে পাবো তোমাকে চুম্মা ,,
কিছু খন রেস্ট নিয়ে গোসল করে একটা ঘুম দিলাম,,, উঠে দেখি ৫ টা বাজে,, বাইরে যেয়ে কিছু খেয়ে হাটা হাটি করে বাসাই আসলাম,, আজ মন টা কেমন যেনো লাগছে পড়াতে মন বসছে না,,, ছাদে গেলাম কিছু খন বসে নিচে আসলাম,, আসলে একা থাকলে সব কষ্টের কথা মনে পড়ে যাই,, কিছুই ভালো লাগে না তখন,, জীবন টা কতো বদলে গেছে,, খুব মনে পড়ছে ফেলে আসা দিন গুলোর কথা,, মা, বাবা, বোন ,, সবাই কে কতো মিস করছি,, ওরা হই তো আমার জন্যে আনেক কষ্ট পাচ্ছে,, এ সব ভাবতে ভাবতে আনেক রাত হয়ে গেলো,, আজ রাতে না খেয়েই সুয়ে পড়লাম,, বুকে কষ্ট থাকলে খাওয়ার ইচ্ছা টা মরে যাই তখন আর খুদা লাগে না,,, সকালে উঠতে দেরি হয়ে গেছে আজ,, নামাজ টাও পড়া হলো না,, ফোন টা হাতে নিয়ে দেখি রুহি ৩ বার মিস কল দিছে,, আমি রুহিকে কল দিলাম,,
---হ্যালো রুহি,,
--- কি রে কই ছিলি কল দিলাম ধরলি না,,
আর বলিস না উঠতে দেরি হয়ে গেছে,, ঘুমাই ছিলাম তাই ধরতে পারিনি,,
--- আচ্ছা শোন ফাতেমার সাথে কথা বলেছিলাম তোর ব্যাপারে,,,
--- তা কি বললো ও


--- আসলে ও কোনো ছেলের সাথে বন্ধু করতে চাইনা,, তবে তুই যদি ও মনের মতো হতে পারিস তো ভেবে দেখবে,,
--- ওর মনোর মতো মানে,, বুঝাই বল,,
--- আরে ওর ইচ্ছা একটা ধার্মিক ফরেজগার ছেলেকে বিয়ে করা আর সে তার বউ কে ইসলামের নিয়মে চলতে সাহায্য করবে,, এ সব,,
--- আরে এটা কোনো ব্যাপার না ,, আমিও তো চাই ফাতেমার মতো একটা মেয়ে যে আমার পৃথিবী টাই বদলে দিবে,, আচ্ছা তুই কলেজে আই তার পরে কথা হবে,,
--- আচ্ছা দোস্ত কলেকে আসলে দেখা হচ্ছে,,
আমি ভাবছি ফাতেমা আর আমার মনের কতো মিল তার যেমন ইচ্ছা আমারো তেমন ইচ্ছা,, হই তো আল্লাহ আমার জন্যে পাঠিয়েছে ওকে 



হাটতে হাটতে কলেজে যাচ্ছি তখন দেখি কিছু ছেলে একটা মেয়েকে ডিসটার্ব করছে ,, আমি দেখে সেখানে যেয়ে দেখি ফাতেমা কে ঘিরে ৪ টা ছেলে দাড়িয়ে আছে,, আমি কাছে যেতেই ফাতেমা আমাকে বললো,,,
--- দেখেন না এই ছেলে গুলো আমার রাস্তা আটকেছে,, রিকশা থেকে নামিয়ে কি সব বাজে কথা বলছে,,,
আমার তো মাথা গরম হয়ে গেলো,, নিজেকে আর কন্ট্রোল করতে পারছি না ,, ফাতেমা কে বললাম তুমি একটু ওই দিকে দাড়াও আমি ওদের বুঝিয়ে বলছি,, ফাতেমা সরে যেতেই একটা ছেলে আমার কাছে এগিয়ে আসলো,, আমি বললাম তোদের সাহস দেখে অবাক হচ্ছি ,,তোরা হই তো আমাকে চিনতে পারিস নি,,
--- ওই বেটা তোরে কি চিনবো রে,, আজ তোরে একে বারে খাইয়া ফালামু ( ওদের ভিতরে থেকে একজন বললো)
আমি কিছু না বলে আমার হাতে ইশারায় একটি কোড বললাম সাথে সাথে ওরা আমার পায়ে পড়ে মাপ চাইতে শুরু করলো,, আমি ওদের বললাম তোদের যদি আর কখনো দেখেছি এ সব করতে তো সে দিন তোদের পৃথিবীতে শেষ দিন হবে,, যা মেয়েটার কাছ মাপ চেয়ে এখান থেকে ভাগ,, ওরা ফাতেমার কাছ মাপ চেয়ে পালিয়ে গেলো, আমি ফাতেমার কাছে যেতেই ও বললো,,
--- ওদের কি এমন বললেন যে এতো সহজে মেনে নিলো,,
--- আমি তো শুধু ওদের একটু বুঝিয়েছি যে এ গুলো করা ঠিক না ,সব নারী মা বোন এর মতো,, একটু বোঝাতেই ওরা বুঝে গেছে,, 

ফাতেমা একটা হাসি দিয়ে বললো চলেন কলেজে যাই,, 

আমার মনে তো লাড্ডু ফুটছে,, মনে মনে ছেলে গুলোকে ধন্যবাদ দিলাম,, ওদের জন্যে একটু হলেও ফাতেমার কাছে আসতে পেরেছি,,, 



আমরা কলেজে পৌছে দেখি আশ্রাফ দাড়িয়ে আছে,, কিরে দাড়িয়ে আছির কেন এখানে,,
--- বন্ধু তোমার জন্যে অপেক্ষা করছিলাম,,, চলো ক্লাসে যাই
--- হুম চল,, আমার হটাৎ রুহির কথা মনে পড়তেই ফাতেমাকে জিগাসা করলাম রুহি কই,,
--- রুহির কি কাজ ছিলো তাই আমার সাথে আসিনি,, ও পরে আসছে,,
---ও আচ্ছা চলো ক্লাস শুরু হবে এখনি,, আমি ক্লাস শেষ করে বাইরে এসে যেটা দেখলাম তা কখনো ভাবতেও পারিনি 


........
চলবে......
নেক্সট পর্ব পেতে ওয়েবসাইট ফলো দিয়ে সাথে থাকুন

0 Comments
কমেন্ট করার জন্য ধন্যবাদ.........।